ঐতিহাসিক মে দিবসের ১২৮ তম বর্ষ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি গঠন-প্রক্রিয়া’র আহবান
দুনিয়ার মজুর এক হও!
ঐতিহাসিক মে দিবসের ১২৮ তম বর্ষ উপলক্ষ্যে
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি গঠন-প্রক্রিয়া’র
আহবান
সংগ্রামী শ্রমিক ভাই ও বোনেরা,
ঐতিহাসিক মে দিবসশ্রমিক সংহতির এই দিনে আপনাদের সকলকে অভিনন্দন। আমরা জানি, সবাই প্রতি বছর মে দিবসটি পালন করছেন শ্রম ঘন্টা কমানোর দিবস হিসেবে। যদিও কর্ম-দিবস ৮ ঘন্টায় নামিয়ে আনার দাবীর বিষয়টি সত্য, তবে তা পূর্ণাঙ্গ সত্য নয়। তাই, আপনাদের সবাইকে অবশ্যই জানতে হবে, উপলব্ধিতে নিতে হবে যে, মে দিবসের তাৎপর্য শুধুমাত্র আট ঘন্টা কর্ম-দিবসের দাবীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সে লক্ষ্যে আপনাদের সামনে কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয়ের উল্লেখ করছি।
১৮৬৪ সালে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত হয় “আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী মানুষের সমিতি”, তা হল ইতিহাসে শ্রমিক শ্রেণীর প্রথম আন্তর্জাতিক গণ-বিপ্লবী সংঘ, যা “প্রথম আন্তর্জাতিক” নামে প্রসিদ্ধ। এই সমিতির নিয়মাবলীতে অন্যান্যের মধ্যে ঘোষিত হল ঃ
“শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তি শ্রমিক শ্রেণীকেই জয় করে নিতে হবে; শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তির জন্য যে সংগ্রাম, তার অর্থ শ্রেণীগত সুবিধা ও একচেটিয়া অধিকারের জন্য সংগ্রাম নয়, সমান অধিকার ও কর্তব্যের জন্য এবং সমস্তশ্রেণী আধিপত্যের উচ্ছেদের জন্য সংগ্রাম;
“শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তির সমস্যাটি কোনো স্থানীয় বা জাতীয় সমস্যা নয়, এ সমস্যা হচ্ছে একটি সামাজিক সমস্যা, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাধীন সমস্তদেশকে নিয়ে, আর এ সমস্যার সমাধান নির্ভর করছে সবচেয়ে অগ্রণী দেশগুলোর ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক সহযোগের উপর;
“শ্রমিক শ্রেণীর রক্ষা, অগ্রগতি ও পূর্ণমুক্তি এই এক লক্ষ্য নিয়ে গঠিত বিভিন্ন দেশে যে সমস্তশ্রমজীবী মানুষের সঙ্ঘ আছে, সেগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার একটি কেন্দ্রীয় মাধ্যম সৃষ্টি করার জন্যই এই সমিতি প্রতিষ্ঠিত হল;
“মালিক শ্রেণীর যৌথ ক্ষমতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে শ্রমিক শ্রেণী শ্রেণী হিসেবে সক্রিয় হতে পারে শুধুমাত্র তখনই, যখন তারা নিজেদের এমন একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পার্টিতে গঠিত করে, যে পার্টি মালিক শ্রেণী দ্বারা গঠিত সমস্তপুরনো পার্টির বিরোধী।”
১৮৬৬ সালের ২০ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত বাল্টিমোর-এ অনুষ্ঠিত হয় আমেরিকান শ্রমিকদের একটি সাধারণ কংগ্রেস। বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বস্বরূপ ৬০ জন প্রতিনিধি এই কংগ্রেসে হাজির ছিলেন। এই কংগ্রেসে শ্রমিকদের বহু সমস্যা আলোচিত হয়, যেমন, আট ঘন্টার কর্ম-দিবসকে আইনসিদ্ধ করার প্রশ্ন, শ্রমিকদের রাজনৈতিক ট্রেড ইউনিয়নের আওতায় আনা ইত্যাদি। শ্রমিকদের এই সাধারণ কংগ্রেস অন্যান্যের মধ্যে ঘোষণা করল ঃ “এই দেশের শ্রমিকদের পুঁজিবাদী দাসত্ব থেকে মুক্ত করার জন্য বর্তমান সময়ে সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে একটি আইন পাশ করা, যার দ্বারা আমেরিকার ইউনিয়নের সমস্তরাষ্ট্রে সঙ্গত কর্ম-দিবস হবে আট ঘন্টা। এই গৌরবময় ফল অর্জিত না হওয়া অবধি আমরা আমাদের সর্বশক্তি নিয়োজিত করতে কৃতসংকল্প।”
ঐ একই সময়কালে জেনেভায় অনুষ্ঠিত শ্রমজীবী মানুষের আন্তর্জাতিক সমিতির কংগ্রেস লন্ডনের জেনারেল কাউন্সিলের প্রস্তাবের উপর যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল তা হল ঃ
“কর্ম-দিবসকে সীমাবদ্ধ করাই হচ্ছে প্রাথমিক শর্ত যেটি না হলে শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি ও তাদের মুক্তির জন্য সমস্তচেষ্টাই নিষ্ফল হতে বাধ্য। ... কংগ্রেস প্রস্তাব করছে ৮ ঘন্টাই কর্ম-দিবসের আইনসঙ্গত সীমা।”
এদিকে ঐ সময়কালে (১৮৬৬) নিউইয়র্ক রাজ্যের ডানকার্ক-এর শ্রমিকদের এক প্রস্তাবে ঘোষিত হল ঃ
“আমরা ডানকার্কের শ্রমিকরা ঘোষণা করছি যে, বর্তমান ব্যবস্থায় যে দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করতে হয় সেইটা অত্যন্ত বেশি এবং তাতে বিশ্রাম ও শিক্ষার জন্য সময় পাওয়া তো দূরের কথা, তাতে এমনই একটি অধীনতার দশায় পড়তে হয় যেটা ক্রীতদাসত্বের চাইতে সামান্য একটু ভালো। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আট ঘন্টাই কর্ম-দিবস হিসেবে যথেষ্ট এবং এইটাই আইনে যথেষ্ট বলে স্বীকৃত হওয়া উচিত।”
সহজেই অনুমেয় যে, কাজের ঘন্টা কমিয়ে ৮ ঘন্টা কর্ম-দিবসের দাবীর সঙ্গে সে কালের শ্রমিকদের এবং তাদের প্রতিনিধিদের যে চিন্তা-চেতনা কাজ করেছিল তার মধ্যে একদিকে যেমন ছিল পুঁজিবাদী দাসত্ব থেকে মুক্তি অর্জন, অন্যদিকে ছিল ঃ আট ঘন্টা কাজ; আট ঘন্টা আমোদ-প্রমোদ, শিক্ষা ও সংগঠন; আট ঘন্টা বিশ্রাম। কাজের ঘন্টা হ্রাস করার এই আন্দোলন যে একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই হয়েছিল তা নয়; উদীয়মান পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় যেখানেই শ্রমিকরা মালিক শ্রেণী কর্তৃক শোষণে নিষ্পেষিত ও নির্যাতিত হচ্ছিল সেখানেই এই আন্দোলন জন্ম নিয়েছিল। সর্বত্রই এই আন্দোলন চলছিল। এমনকি তৎকালীন ভারতবর্ষও পিছিয়ে ছিলো না। ১৮৬২ সালে হাওড়ার রেলওয়ে ষ্টেশন ভিত্তিক প্রায় ১২০০ শ্রমিক ৮ ঘন্টা কর্ম-দিবসের দাবীতে ধর্মঘট করে কর্মত্যাগ করেছিল।
১৮৮৪ সালের ৭ই অক্টোবর “ফেডারেশন অভ্ অর্গানাইজড ট্রেডস্ এন্ড লেবর ইউনিয়ন অভ্ দি ইউনাইটেড স্টেট্স্ এন্ড কানাডা” (১৮৮৬ সালে যার নাম হয় ”দি আমেরিকান ফেডারেশন অভ্ লেবর”) সুদীর্ঘ আন্দোলনের এক উজ্জ্বল সন্ধিক্ষণে ঘোষণা করল ঃ “১৮৮৬ সালের ১লা মে থেকে দৈনিক আট ঘন্টাকেই কাজের দিন বলে আইনত গণ্য করা হবে। এই সঙ্গে আমরা সমস্তশ্রমিক সংগঠনের কাছে সুপারিশ করছি যে, তারা যেন উপরোক্ত তারিখের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজ নিজ এলাকায় আইন-কানুন পরিচালনা করেন।” তারা এই সাথে “দি নাইটস অব লেবর”-এর কাছে আবেদন করলেন যাতে তারাও আট ঘন্টার কাজের দাবীর আন্দোলনের পেছনে সমর্থন জানান।
১৮৮৪ সালে নব উদ্যোগে আট ঘন্টা শ্রম দিবসের আন্দোলনের সূচনা করেছিল “ফেডারেশন”, এ দাবী পূরণের জন্যে ধর্মঘটের তারিখও ঠিক করেছিল এই “ফেডারেশন”। ১৮৮৫ সালে ফেডারেশনের সম্মেলন থেকে পরবর্তী বছরের ১লা মে ধর্মঘট করে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্ত পুনরায় ঘোষণা করা হয়। কয়েকটি জাতীয় ইউনিয়ন আসন্ন সংগ্রামের জন্যে আনুসঙ্গিক ব্যবস্থাদি গ্রহণ করে। আমেরিকার সমগ্র শ্রমিক আন্দোলনে একটা নব জাগরণের সাড়া পড়ে গেল। শহরে শহরে আট ঘন্টা শ্রম সমিতি গড়ে উঠল। এ ভাবেই শ্রমিক শ্রেণী দৃঢ় পদক্ষেপে সূচনা করেছিল ১৮৮৬ সালের ১লা মে’র আন্দোলন।
সংগ্রামী শ্রমিক ভাই ও বোনেরা,
এটা ঠিক যে শ্রমিক শ্রেণী আট ঘন্টা কর্ম-দিবস অর্জন করেছেন। কিন্তু মূলতঃ যে যে কারণে এই আট ঘন্টা কর্ম-দিবসের দাবীর কথা উত্থাপিত হয়েছিল, তার কোনোকিছু অর্জন হওয়া তো দূরের কথা, শ্রমিক শ্রেণী যেন তা ভুলেই গেছেন। তাই দেখা যাচ্ছে, শ্রমিক শ্রেণী আজ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, মহা আনন্দে ঐতিহাসিক মে দিবসকে একটি উৎসবের দিন বানিয়ে ফেলেছেন। এমনকি অর্জিত যে ৮ ঘন্টা কর্ম-দিবস তা-ও অনেক ক্ষেত্রে রক্ষা করতে পারছেন না। তথাকথিত এক শ্রেণীর ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের দালালি ও প্ররোচনায় স্বাভাবিক হারে ওভারটাইম (অতিরিক্ত সময়) কাজ করছেন বা করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের আইনেরও বিরোধী।
শ্রমিক শ্রেণীর জন্যে আট ঘন্টা কর্ম-দিবস দাবীর মূলে ছিল “শ্রমিকদের পুঁজিবাদী দাসত্ব থেকে মুক্ত করার”, “অধিনতার দশা” থেকে অর্থাৎ, “ক্রীতদাসত্বের চাইতে সামান্য একটু ভালো” অবস্থা থেকে মুক্তি অর্জন করা। সে কারণে, মে দিবস পালনের মূল নিহিতার্থ হল শ্রমিক শ্রেণীকে মালিক শ্রেণীর নির্যাতন ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি অর্জন করা, অর্থাৎ মালিক শ্রেণীর দাসত্ব করা থেকে মুক্তি অর্জন করা। আর এ মুক্তি অর্জনের অর্থই হল মজুরি-দাসত্বের অবসান ঘটানো। যা ব্যক্তিগত মালিকানার সমাজে সম্ভব নয়, মুক্তির জন্যে প্রয়োজন সমাজ থেকে ব্যক্তিগত মালিকানার অবসান করে সামাজিক মালিকানা (সার্বজনীন মালিকানা) প্রতিষ্ঠা করা। এর জন্যে যা প্রয়োজন তা হল রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে মালিক শ্রেণীর আধিপত্য উৎখাত করে শ্রমিক শ্রেণী কর্তৃক রাজনৈতিক ক্ষমতা অধিকার করা, সকল উৎপাদনের উপকরণের ওপর থেকে ব্যক্তিগত মালিকানা উৎখাত করে সামাজিক মালিকানা অর্থাৎ, সার্বজনীন মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা। আর তা করতে হলে শ্রমিক শ্রেণীকে শুধুমাত্র ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, প্রতিটি দেশেই তাদের গড়তে হবে নিজস্ব শ্রেণী স্বার্থের রাজনৈতিক পার্টি, যা হবে প্রচলিত ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতা বহির্ভূত মালিক শ্রেণী দ্বারা গঠিত সমস্তপুরনো ও নতুন পার্টির বিরোধী।
একটি বিষয় আপনাদের পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে যে, মালিক শ্রেণী কোন অবস্থায়ই শ্রমিক শ্রেণীর মঙ্গল চাইতে পারে না। কারণ, তাদের মূল বিষয়ই হল শ্রমিক শ্রেণীকে শোষণ করা, যার অর্থই হল তাদের পুঁজির বৃদ্ধি ঘটানো। সে কারণে সর্বদাই এবং সর্বত্র তারা শ্রমিক শ্রেণীকে কাজের বিনিময়ে মজুরি হিসেবে যা দিতে বাধ্য হয় তা হল, শ্রমিক হিসেবে শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখা (যাতে করে সে আবার কাজে আসতে পারে) এবং তার বংশরক্ষার (যাতে তারাও ভবিষ্যতের জন্য শ্রমিকের কাজে নিয়োজিত হতে পারে) পক্ষে অপরিহার্য অন্নবস্ত্রের সংস্থানটুকুর ব্যবস্থা করা। এ অবস্থায় শ্রমিক শ্রেণীকে আটকে রাখা হয়েছে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের মধ্যে, আটকে রাখা হয়েছে বাড়তি কাজ করতে বা শিল্প-কারখানায় কাজ করার পরও আরও কিছু করে নিজ সংসারটিকে টিকিয়ে রাখতে। এ অবস্থাকে অবশ্যই ভাঙতে হবে।
সংগ্রামী শ্রমিক ভাই ও বোনেরা,
কর্মকর্তাদের বেতন আর শ্রমিকদের মজুরি স্কেলের বর্তমান আকাশ-পাতাল প্রভেদ তথা ব্যবধান কোন অবস্থায়ই মেনে নেয়া যায় না। সময় এসে গেছে মজুরি-প্রথা উচ্ছেদের আন্দোলন-সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার। সরকারী বা বেসরকারী, যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন পর্যায় পর্যন্ত প্রত্যেকেই স্ব স্ব যোগ্যতা অনুযায়ী একই কর্ম-দিবস (যেমন, আট ঘন্টা) কাজ করে থাকেন (যদিও অন্যায়ভাবে অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের বেশী সময় কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে)। এবং সকলেই নিজ নিজ দায়িত্বে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাত্রা নির্বাহ করে থাকেন, ভবিষ্যতের নাগরিক জন্মদান ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বও উভয়েরই। একমাত্র জন্মগত কারণেই সমাজে সুবিধাভোগী ও বঞ্চিতদের আলাদা-আলাদা শ্রেণীর জন্ম হচ্ছে, শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে ব্যপক ব্যবধান থেকে যাচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে এমনিতেই প্রত্যেকের কাজ তথা কর্মস্থলের পরিবেশ আলাদা, কাজের ধরন আলাদা, জীবনের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আলাদা, জীবনের ঝুঁকিও কাজের পরিবেশ ও অবস্থানের কারণে আলাদাউৎপাদনের শ্রমিক, পরিবহণের শ্রমিক প্রভৃতিদের জীবনের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশীপরিশ্রমও অনেক বেশী। এরই পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য কিন্তে একই বাজারে যেতে হয় সকলকেই। উপরন্তু, স্বাভাবিকভাবেই কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে কর্মচারীদের তুলনায় শারীরিক পরিশ্রম শ্রমিকদের বেশী হওয়ায় খাদ্যের প্রয়োজন বেশী হওয়া আবশ্যক, কর্মের পরিবেশগত কারণে কর্মচারীদের তুলনায় শ্রমিকদের শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি বেশী হওয়ায় চিকিৎসাব্যয় বেশী হওয়াই স্বাভাবিক, পরিচ্ছন্নতার জন্য ব্যয় বেশী হওয়াও আবশ্যক। এ সকল কারণে সর্বোচ্চ কর্মকর্তার বেতন আর একজন দক্ষ শ্রমিকের মজুরির মধ্যে আকাশচুম্বী ব্যবধান হওয়ার কোনই যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই, বরং তা অবশ্যই হওয়া উচিত সমান-সমান। কিন্তু স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জনগণের বলে কথিত বিভিন্ন সরকারগুলো বিভিন্ন সময়ে যে বেতন-স্কেল ও মজুরি-স্কেল ঘোষণা করে চলেছেন তা শুধু বৈষম্যমূলকই নয়, বরং তা অমানবিক ও নিপীড়নমূলকও বটে।
এ প্রসঙ্গে আমাদের বক্তব্য হ’ল, সর্বোচ্চ বেতনের বিপরীতে সর্বনিম্ন মজুরি প্রাথমিকভাবে এমন এক স্তরে নির্ধারণ করতে হবে যাতে করে সমাজের একজন মানুষ হিসেবে ভোগ ও প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে বর্তমানের আকাশ-পাতাল ব্যবধানের অবসান ঘটানো যায় এবং সর্বনিম্ন মজুরি দিয়ে একজন শ্রমিক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ (ক) ধারায় বর্ণিত “অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা” করতে পারেন এবং ১৯ (২) ধারায় বর্ণিত “মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করিবার জন্য” রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। সে-সঙ্গে সকল শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য সংবিধানের ১৫ (গ) ধারায় বর্ণিত “যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার” নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের কর্মচারীদের ন্যায় বিভিন্ন ছুটি সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রাপ্তি ও ভোগের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যবিধান করতে হবে। সে লক্ষ্যে শ্রম আইনের সকল প্রকার অগণতান্ত্রিক ধারা ও অসঙ্গতি দূর করে প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উপযোগী শ্রম আইন চালু করতে হবে।
এ রূপের বাস্তবতায় “শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার টাকা করার দাবি” (ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র), “ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার টাকা” (দাবী স্কপ নেতাদের), “পোষাক শিল্পে সাত হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি” (গার্মেন্ট শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ), “নিম্নতম মজুরি পাঁচ হাজার পাঁচশত টাকা দাবি” (ব্যক্তিমালিকানাধীন পাট, সুতা ও বস্ত্রকল সিবিএ সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ) ইত্যাদি দাবী বর্তমান পর্বে যথার্থ নয়। এখন সময় এসে গেছে সর্বোচ্চ বেতনের বিপরীতে আনুপাতিক মজুরি দাবীর এবং তা বাস্তবায়িত হতে হবে জাতীয় ভিত্তিতে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও রাষ্ট্রায়ত্ত সকল শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকদের জন্য একই আনুপাতিক হারে। কারণ, প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের বাজার সকলের জন্য একই। এ কারণে টাকার পরিমাণটি মুখ্য বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হ’ল সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পর্যায়ে ভোগ ও প্রাপ্তির বিষয়। সর্বোচ্চ বেতন ভোগকারী ব্যক্তি যদি সাকল্যে মাসিক ৬০,০০০.০০ টাকায় তাঁর এবং তাঁর পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহ করতে পারেন, তাহলে একজন শ্রমিক সে ৬০,০০০.০০ টাকার তিন ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ, ২০,০০০.০০ টাকায় জীবনযাত্রা নির্বাহ করতে পারবেন। এর বিপরীতে, একজন শ্রমিক যদি মাসিক সাকল্যে ৪,০০০.০০ টাকায় জীবনযাত্রা নির্বাহ করতে পারেন, তাহলে সর্বোচ্চ কর্মকর্তা কেন এর তিন গুণ অর্থাৎ, ১২,০০০.০০ টাকায় জীবনযাত্রা নির্বাহ করতে পারবেন না, এটাই হচ্ছে শ্রমিক শ্রেণীর প্রশ্ন?
আমরা দেশব্যাপী সরকারী কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ বেতনের বিপরীতে প্রচলিত ন্যক্কারজনক, বৈষম্যমূলক ও নিপীড়নমূলক আকাশ-পাতাল ব্যবধান সম্বলিত মজুরি-স্কেল বিলোপের আহবান জানাচ্ছি। আমরা দাবি করছি যে, পণ্যদ্রব্য মূল্য নির্ধারণ ও তার ঊর্ধ্বগতি রোধ করে সর্বক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বেতন এবং সর্বনিম্ন মজুরি ও বেতনের ব্যবধান কমিয়ে প্রাথমিকভাবে তা ৩ ঃ ১ অনুপাতে (অর্থাৎ, সর্বোচ্চ তিন ও সর্বনিম্ন এক অনুপাতে) নির্ধারণ করতে হবে। এর অর্থ আনুষাঙ্গিক সুবিধাদিও ঐ একই অনুপাতে হতে হবে। পরবর্তী পর্যায়ে যথাযথ কারণে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে তা (বেতন ও মজুরি) আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনার “শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা”র লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ৩ ঃ ১ অনুপাত কমিয়ে এনে ১ ঃ ১ অনুপাতে আনার যথার্থ পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
সংগ্রামী শ্রমিক ভাই ও বোনেরা,
শুধুমাত্র মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। কারণ, “দাস প্রথার ভিত্তিতে স্বাধীনতার জন্য গলাবাজি করাও যা, মজুরি-প্রথার ভিত্তিতে সমান এমন কি ন্যায্য পারিশ্রমিকের জন্য হৈ চৈ করাও তাই।” সে কারণে “ ‘দিনের ন্যায্য খাটুনির জন্য ন্যায্য দিন-মজুরি!’এই রক্ষণশীল নীতির বদলে তাদের উচিত পতাকায় এই বিপ্লবী মন্ত্র মুদ্রিত করা‘মজুরি-প্রথার অবসান চাই!’ ” সে লক্ষ্যে আপনাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে নিজেদের মুক্তমানুষ তথা স্বাধীন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্যে। মুক্তমানুষ হতে হলে সর্বপ্রথমেই চাই সমাজ থেকে মজুরি-প্রথার উচ্ছেদ। আর তাই আপনাদের আন্দোলন-সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে মজুরি-প্রথা উচ্ছেদের জন্য। কারণ, মজুরি-প্রথাই হ’ল শ্রমিকদের উপর মালিকশ্রেণী কর্তৃক শোষণ-নির্যাতন চালানোর পূর্ব শর্তমজুরি-প্রথাই হ’ল শ্রমিকদের দীনতা-হীনতা সহ সকল প্রকারের দারিদ্র্য-বৈষম্য-নিপীড়নের মধ্যে আটকে রাখার মূল অস্ত্র। তবে এই মজুরি-প্রথা উচ্ছেদ সম্ভব করতে হলে শ্রমিক শ্রেণীকে সর্বাগ্রে যা বুঝতে হবে তা হ’ল, শ্রেণীবিভক্ত সমাজে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শ্রমিকরা একটি আলাদা শ্রেণী, এবং সে কারণে মালিকশ্রেণীর বিপরীতে তাদের অবশ্যই একটি শ্রেণী হিসেবে গঠিত হতে হবেজানতে ও বুঝতে হবে মজুরি-দাসত্ব থেকে মুক্তির রাস্তা কী। প্রচলিত সকল প্রকারের মালিকশ্রেণীর রাজনৈতিক দলগুলোর বিপরীতে শ্রমিক শ্রেণীকে সংগঠিত হতে হবে নিজস্ব শ্রেণীর একটি রাজনৈতিক পার্টিতে,গড়ে তুলতে হবে শ্রমিক শ্রেণীর একটি বিপ্লবী পার্টি,যা হবে (সকল সুবিধাবাদী ও মেকী সমাজতান্ত্রিক এবং সুবিধাবাদী ও মেকী কমিউনিস্ট পার্টিগুলো থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা) মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তত্ত্বে ও বিপ্লবী মন্ত্রে সজ্জিত প্রকৃত অর্থে একটি কমিউনিস্ট পার্টি, যার উদ্দেশ্য হবে সমান অধিকার ও কর্তব্যের অধিকার সম্বলিত শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। রাষ্ট্রের ক্ষমতা থেকে বুর্জোয়া-পেটিবুর্জোয়াদের আধিপত্য উচ্ছেদ করতে হবে এবং শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে ও কর্তৃত্বে রাজনৈতিক ক্ষমতা অধিকার করতে হবেযার লক্ষ্য হবে গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক উভয়বিধ কর্মসূচি সম্পাদন করা। একমাত্র এ পথেই সম্ভব হবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান-এর প্রস্তাবনায় বর্ণিত “আমরা আরও অঙ্গীকার করিতেছি যে, আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হইবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে”, সংবিধানের ১৪ ধারায় বর্ণিত “রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে মেহনতী মানুষকেকৃষক ও শ্রমিককেএবং জনগণের অনগ্রসর অংশসমূহকে সকল প্রকার শোষণ হইতে মুক্তি দান করা” এবং সংবিধানের ১০ ধারা অনুসারে “মানুষের উপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে” বাস্তবায়ন করা।
যেহেতু বাংলাদেশে শ্রমিক শ্রেণীকে মজুরি-দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে ইচ্ছুক এবং তদানুযায়ী কর্মসূচী কার্যকারী করতে প্রস্তুত শ্রমিক শ্রেণীর তেমন একটি নিজস্ব পার্টি অনুপস্থিত, সেহেতু সর্বস্তরের শ্রমিকগণের সংগ্রামের লক্ষ্যে একটি খসড়া দাবীনামা পেশ করছি।
সংগ্রামী শ্রমিক ভাই ও বোনেরা,
আপনারা লৌহদৃঢ় ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলে নিম্নে উল্লিখিত দাবীসমূহ আদায়ের জন্য অবিরাম আন্দোলন ও সংগ্রামের শপথ নিন।
চব্বিশ দফা দাবী
১। যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনকারী বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে মৌলিক অধিকারগুলো অর্জনের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৮ (২) ধারার শর্তাংশ “তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবতযোগ্য হইবে না” এটি সংবিধান থেকে বাদ দিতে হবে!
২। সংবিধানের ১৯ (১) ধারা অনুসারে “সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৭ (ক) ধারা অনুসারে “একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন” পূর্ণাঙ্গরূপে কার্যকারী কর!
৩। গার্মেন্টস্ শিল্প সহ রাষ্ট্রায়ত্ত ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সকল শিল্প-কারখানায় জাতীয় ভিত্তিতে একক মজুরি কমিশন ঘোষণা কর!
৪। সংবিধানের ১৯(২) ধারায় বর্ণিত “মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুসম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য” সর্বস্তরে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন ও মজুরি প্রাথমিকভাবে ৩ ঃ ১ (তিন অনুপাত এক) হারে ধার্য করার বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ কর!
৫। সংবিধানের ১৯ (২) ধারায় বর্ণিত “মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুসম বন্টন নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবে” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ সদস্যগণের প্রাপ্য বেতন ও ভাতা ছাড়া অন্যান্য সকল সুযোগ-সুবিধা নির্মূল কর!
৬। ব্যক্তিমালিকানাধীন সকল শ্রমিকদের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের ন্যায় বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপত্র প্রদান, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও সমান হারে গ্র্যাচুইটি প্রথা চালু কর!
৭। কর্মচারীদের ন্যায় বিভিন্ন ছুটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সকল ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্যেও বলবত কর!
৮। বর্তমানে প্রচলিত শ্রম আইনের অগণতান্ত্রিক ও শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী ধারাগুলো বাতিল করে শ্রমিক স্বার্থানুকুল নতুন ধারা সংযোজন কর!
৯। কোনোরূপ ব্যতিক্রম ছাড়া শিল্প-করখানা ও প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে ও সর্বত্র একই রূপের আই.এল.ও কর্তৃক স্বীকৃত শ্রম আইন চালু কর!
১০। কোনরূপ ব্যতিক্রম ছাড়া সকল শিল্প-কারখানার শ্রমিক এবং কৃষি শ্রমিকদের জন্য ভর্তুকি-মূল্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু কর!
১১। গার্মেন্টস্ ও ট্যানারী শিল্প সহ সর্বক্ষেত্রে আট ঘন্টা শ্রম-দিবস চালু কর!
১২। বাধ্যতামূলক ওভারাইম (অতিরিক্ত) কাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ কর!
১৩। আইন বহির্ভূত সাধারণ হারে ওভারটাইম (অতিরিক্ত) কাজ পূর্ণাঙ্গরূপে বন্ধ কর!
১৪। ই.পি.জেড এলাকার শিল্প ও গার্মেন্টস্ শিল্প সহ সকল শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের অবাধে ট্রেড ইউনিয়ন গড়তে দাও!
১৫। রাষ্ট্রায়ত্ত ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সকল বন্ধ শিল্প-কারখানা চালু কর!
১৬। শিল্প-কারখানায় ঘুষ-দুর্নীতিসহ সর্বপ্রকার লুটপাট বন্ধ কর!
১৭। শিল্প-কারখানায় ম্যানেজমেন্টের অন্যায় আচরণ ও অত্যাচার বন্ধ কর!
১৮। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সহ জাতীয় ক্ষেত্রে সকল প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ কর!
১৯। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট পরিবার ধরে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী কৃষি-শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়ন কর!
২০। কোনোরূপ শর্ত ছাড়া কৃষি-শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার বলবত কর!
২১। কর্ম-সংস্থানের লক্ষ্যে বিদেশে পাচার করা সকল অর্থ ফেরত এনে উতপাদন শিল্পে বিনিয়োগ কর!
২২। বিদেশে অর্থ পাচারের সকল কৌশল বন্ধ কর!
২৩। সকল ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশন থেকে দারিদ্রের ছবি-ব্যবসায়ী, দুর্নীতিপরায়ণ ও সুবিধাবাদী নেতৃত্বকে ঝেঁটিয়ে বিদায় কর!
২৪। সকল ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশন থেকে সমস্তরকমের আঞ্চলিক ও জেলাওয়ারী প্রচার বন্ধ কর!
০১/০৫/২০১৪ ইং
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি গঠন-প্রক্রিয়া’র পক্ষে
হেলাল উদ্দীন কর্তৃক ১২/১-ক, কবি জসীমউদ্দীন রোড (২য় তলা), উত্তর কমলাপুর, ঢাকা-১২১৭ হতে প্রচারিত।
সহযোগী সংগঠন
বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফোরাম (রেজিঃ নং. বাঃজাঃফে-২০)
গার্মেন্টস্ শ্রমিক ফেডারেশন
নারী মুক্তি ফোরাম
যোগাযোগ ঃ ০১৭১২-০৪২৬৭৪; ০১৯১১-৩৫৭৬৩৬; ০১৭২০-৯৯৫৯০১

Comments
Post a Comment